হাওজা নিউজ এজেন্সি: হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মুহসিন কারাআতি বলেন— তরুণরা প্রায়ই এ ধরনের প্রশ্ন তোলে। আমরা বলি, যদি যাকাত আদায় না করা হয়, তবে বৃষ্টি নেমে আসে না। তখন তারা বলে, “অমুক দেশে তো মানুষ ধর্মই মানে না, অথচ সেখানে সকাল-সন্ধ্যা বৃষ্টি হয়!”
আবার আমরা বলি, অন্যায় করলে আল্লাহ শাস্তি দেন। তখন তারা বলে, “অমুক ব্যক্তি তো আমার চেয়েও অনেক বেশি অন্যায় করে, অথচ তার তো কিছুই হয় না; বরং সে খুব সুখেই জীবন কাটাচ্ছে!”
বিষয়টি এভাবে বুঝুন— এক ফোঁটা চা যদি আপনার চশমার কাঁচে পড়ে, আপনি সঙ্গে সঙ্গে টিস্যু দিয়ে তা মুছে ফেলবেন।
কিন্তু একই ফোঁটা যদি কাপড়ে পড়ে, তখনই পরিষ্কার করবেন না; বলবেন, “বাড়ি গিয়ে হাতে বা ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে ফেলব।”
আর যদি সেই চা কার্পেটে পড়ে, তখন হয়তো আরও পরে পরিষ্কার করার কথা ভাববেন। বলবেন, “থাক, পরে পরিষ্কার করব—ঈদের আগে বা সুবিধামতো সময়ে।”
অর্থাৎ, একই দাগ হলেও আপনি তিনটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে তিন রকম আচরণ করেন। আল্লাহ তাআলার ব্যবস্থাও অনেকটা এমনই।
প্রথমত, যদি সৎ, নির্মল ও ঈমানদার মানুষ কোনো ভুল বা গুনাহ করে, আল্লাহ দ্রুতই তাকে সতর্ক করেন এবং সংশোধনের সুযোগ করে দেন। কারণ, তিনি চান তাঁর বান্দা দ্রুত সঠিক পথে ফিরে আসুক।
দ্বিতীয়ত, যদি কোনো ব্যক্তি পাপে অভ্যস্ত হয়, আল্লাহ তার শাস্তি বিলম্বিত করেন। তাকে আরও কিছু সময় ও অবকাশ দেওয়া হয়।
তৃতীয়ত, আর যদি কেউ জুলুম ও পাপাচারে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়, তাহলে তার শাস্তি আরও পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে—এমনকি কিয়ামত পর্যন্ত। সেদিন সে তার কর্মের পূর্ণ হিসাব ও প্রতিফল ভোগ করবে।
অর্থাৎ, দুনিয়ায় কারও তাৎক্ষণিক শাস্তি না হওয়া কখনোই তার নির্দোষ বা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রমাণ নয়। আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের অবস্থা, চরিত্র ও হিকমত অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করেন। তাই বাহ্যিক অবস্থা দেখে আল্লাহর বিচার সম্পর্কে তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়; কারণ তাঁর বিচার কখনো বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই ব্যর্থ বা অন্যায় হয় না।
আপনার কমেন্ট